জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে থাক, নিজেকে প্রমান কর

Saturday, 12 , October, 2019

zika virus

জিকা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। প্রতিকার এবং লক্ষণ কি ?

Written by jobaer , 106 Views, Date : 12 Oct, 19

গবেষকেরা এই ভাইরাস শনাক্ত (Identify) করেন ১৯৪৭ সালে। এটি আবরণযুক্ত একসূত্রক RNA ভাইরাস। আফ্রিকার দেশ উগাণ্ডার একটি বনের নাম জিকা। সে বনের বানর থেকে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয় বলে গবেষকেরা নাম দিয়েছেন জিকা ভাইরাস।এটি বাংলাদেশে প্রথম সনাক্ত হয় ২০১৬ সালে।

কোন অঞ্চল গুলো জিকা আক্রান্ত ?

জিকা ভাইরাস নিয়ে তেমন উদ্বেগ দেখা যায়নি কখনো। হঠাৎ করে গত পাঁচ -বছর যাবৎ দক্ষিণ আমেরিকায় এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ব্রাজিলে, জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। তিন বছর আগে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত শুধু ব্রাজিলে ৪০ হাজারের বেশি শিশু ছোট মাথা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দক্ষিণ আমেরিকায় ভয়াবহ আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জিকা ভাইরাস। প্রতিবেশী দেশগুলোতে (ভারত, নেপাল ) জিকা আক্রমণ এর ফলে বাংলাদেশ এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

কিভাবে জিকা ভাইরাস ছড়ায় ?

জিকা ভাইরাস ছড়ায় Aedes aegypti, Aedes albopictus এই দুই প্রজাতির মশার মাধ্যমে। এই মশা, ডেঙ্গু ভাইরাসও ছড়ায়। জিকা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমেও সুস্থ মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। এর সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বর, পীত জ্বর প্রভৃতির অনেক মিল আছে।

জিকা ভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ কি ?

জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, হালকা মাথা ব্যথা, অবসাদগ্রস্ততা, কনজাংটিভাইটিস, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা, শরীরে লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ।

রোগের তীব্রতা কতুটুকু ?

আশার খবর হলো, এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ভয়াবহ কোনো সমস্যা হয় না। ৫-৭ দিনের মধ্যে এমনিতেই রোগ সেরে যায়। মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। গর্ভবতী নারীরা জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যেটি মাইক্রোসেফালি (Microcephaly) নামে পরিচিত। ব্রাজিলে গত বছর হঠাৎ করে কয়েক হাজার শিশু স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট মাথা নিয়ে জন্মায়। অনেকেই মনে করছেন জিকা ভাইরাসের কারণে এমনটি হতে পারে। তবে জিকা ভাইরাসের জন্যই যে এমনটি হয়েছে, সে বিষয়ে গবেষণালব্ধ সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ (experimental evidence) মেলেনি। তাই জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে, গর্ভস্থ শিশুর মাইক্রোসেফালি হতে পারে-এমন ভাবনায় মানুষ অকারণেই মাত্রাতিরিক্ত ভয় পাচ্ছে।

প্রতিকার ও প্রতিষেধক কি ?

জিকা ভাইরাস সহ অঞ্চলগুলিতে ভ্রমণকারীদের দিনের বেলা মশার কামড় রোধ করার জন্য সূক্ষ্ম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রতিরোধমূলক medication বা ভ্যাকসিন নেই ।
উন্মুক্ত ত্বকে 20% -30% DEET বা 20% Picaridinযুক্ত একটি বিকর্ষণকারী ব্যবহার করুন। প্রস্তুতকারকের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় প্রয়োগ করুন।
আক্রান্ত রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পানীয় খাবার খাওয়া উচিত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।
নিরপেক্ষ বর্ণের (বেইজ, হালকা ধূসর) পোশাক পরুন। যদি সম্ভব হয় তবে লম্বা হাতা, দমযুক্ত পোশাক পরুন।

এ ভাইরাস থেকে প্রতিকারের উপায় হলো, মশা থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখা।ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করা। ঘর-বাড়ি মশা মুক্ত রাখা। মশার বিস্তার রোধ করা। মশানাশক ও মশারি ব্যবহার করা। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদে থাকা।Apply sunscreen first followed by the repellent (preferably 20 minutes later).
বাংলাদেশে প্রায়শই কোনো রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দিয়ে ভয় জাগিয়ে দেওয়া হয়। অযথা ভীতি নিয়ে না থেকে সঠিকভাবে জানুন। নিজে সচেতন হয়ে অন্যকে জানান। সে অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করুন। মানব সভ্যতায় রোগ নতুন কিছু নয়। রোগ লড়াইয়ে প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও সাবধানতা। বাংলাদেশ হোক জিকা ভাইরাস মুক্ত-এই কামনা।

বিস্তারিত জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। পরদিন সব নতুন আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেজ এ যুক্ত থাকুন।

Write your comments here

comments